সময় টা ১৯৭০-এর দশক, এক টগবগে কিশোর কেইচি সুচিয়া জাপানের পাহাড়ি রাস্তায় রাতের আঁধারে রেস করত। ট্রফি বা নামডাকের মোহ তার ছিল না বরং পুরনো টয়োটা AE86 গাড়িটাকে ধোঁয়া উড়িয়ে বাঁকগুলোতে স্লাইড করানোর রোমাঞ্চই তাকে টানত। স্থানীয়রা “ভুতুড়ে গাড়ি”র গল্প করত, যে পাহাড়ে ভূতের মতো ড্রিফট করে বেড়ায়!
পুলিশ ভয়ে দিনে মেকানিকের কাজ করত, আর রাতের আলোয় জ্বলে উঠত তার ড্রিফটের নেশা।ড্রিফটিং একটা বিপজ্জনক কৌশল, গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভান করে সে বাঁকগুলোতে পেছন চাকা স্লাইড করাত, আর ধোঁয়ায় পাহাড় কাঁপিয়ে দিত!
▪️যে ভিডিও বদলে দিল সব
১৯৮৭ সালে এক ফিল্ম ম্যাকার গোপনে পাহাড়ে গিয়ে কেইচির ড্রিফটিং রেকর্ড করলেন। “প্লাস্পাই” নামের ওই ভিডিওটিতে তার AE86-কে দেখা গেল ভুতের মতো পাহাড়ে বাঁক কাটতে। গাড়িপ্রেমীদের মধ্যে ভিডিওটি জঙ্গলের আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ল। সবাই বলতে লাগল
ডরিকিন” (ড্রিফট কিং) এর মতো ড্রিফট শিখতে হবে! সে একটা ব্র্যান্ড এ পরিনত হলো।
কিন্তু খ্যাতির সঙ্গে এলো সমস্যা। রেসিং অ্যাসোসিয়েশন তাকে নিষিদ্ধ করল “বেআইনি রেসিং” এর অভিযোগে। কিন্তু হাল ছাড়ল না কেইচি। শপথ নিল ড্রিফটিংকে “রিয়েল স্পোর্টস ” বানাবে!
▪️নিষিদ্ধ থেকে কিংবদন্তিতে
কেইচি শুধু ড্রিফটিংই নয়, সবধরনের রেসে জয়ী হতে লাগল টুরিং কার, ২৪ ঘণ্টার লে ম্যানস (১৯৯৯ সালে টয়োটার হয়ে জয়), সুপার জিটি। কিন্তু ড্রিফটিংই ছিল তার নেশা।
২০০০ সালে, তিনি শুরু করলেন *D1 গ্র্যান্ড প্রিক্স* বিশ্বের প্রথম প্রো ড্রিফটিং লিগ। এখানে জেতার মানে শুধু দ্রুত গতি নয়, স্টাইল, ধোঁয়া আর শিল্পময়তা! লোকজন প্রথমে হাসল… কিন্তু যখন স্টেডিয়াম ভরে গেল উৎসুক দর্শকে, সবাই বুঝল ড্রিফটিং এখন খেলা নয়, শিল্প!
▪️অ্যানিমে হিরো এবং টুনা মাছের ড্রাইভার
কেইচির AE86 লেজেন্ড হয়ে উঠল, তৈরি হলো বিখ্যাত অ্যানিমে ইনিশিয়াল ডি , (তিনি ছিলেন এর টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার!) এর উপর অনুপ্রাণিত হয়ে ফ্যানরা তাকে বলত আসল জীবনের “তাকুমি ফুজিওয়ারা”, আনিমের হিরো।
হলিউডও তাকে ডাকল! *দ্য ফাস্ট অ্যান্ড দ্য ফিউরিয়াস: টোকিও ড্রিফ্ট* (২০০৬) ছবিতে তিনি একজন মৎস্যজীবীর ভূমিকায় ড্রিফট করলেন এক টুনা মাছের ট্রাক নিয়ে! প্রশ্ন করলে হেসে বলতেন, “ড্রিফটিং তো সবার জন্য!”
▪️গুরু হিসেবে কেইচি
আজ কেইচি এক উচ্ছ্বল শিক্ষক। টিভি শো করেন, ড্রিফট বাইবেল” নামে একটি বই লিখেছেন , তরুণদের শেখান *নিরাপদে* ড্রিফট করতে।তিনি বলেন “Respect the road,Drifting isn’t rebellion—it’s art.”
তিনি এখনও চালান তার AE86। ফ্যানরা জিজ্ঞাসা করে, “রিটায়ার করেননি কেন?” উত্তর দেন চোখ টিপে Why stop dancing when the music’s still playing?
▪️লিগ্যাসি:ড্রিফটিং আজ গ্লোবাল স্পোর্টস, আর কেইচির AE86 টয়োটার মিউজিয়ামে শোভা পায়। কিন্তু তার কাছে আসল সাফল্য—দুনিয়াজুড়ে যেসব কিশোর ড্রিফট শিখছে, যেন তারা তারই প্রতিধ্বনি, যে কয়েক দশক আগে পাহাড়ে নক্ষত্রের নিচে ড্রিফট করত।
কেইচি সুচিয়ার একটা কথা আমার খুব পছন্দের
*“Speed is easy,Style is forever.” 🚗💨